যেই বছর ইন্টার দিলাম সেই বছর হাসিনার সরকার ট্যাক্স ফ্রি করলো কম্পিউটারের জিনিসপত্রের উপরে। ফার্স্ট ইয়ার থেকেই বাপের পিছনে ঘুরতে ছিলাম কম্পিউটার কিনে দেবার জন্য। পরীক্ষা দিয়েই আবার ঘ্যান ঘ্যান শুরু করলাম দুই ভাই মিলে। তখন পেন্টিয়াম ২ এর মার্কেট চলতেছে। সেই সময়ে আসলো সেলেরন প্রসেসর। পেপারে দেখতাম নিয়মিত পেন্টিয়াম ২ সেইম কনফিগারেশন কিন্তু দামের পার্থক্য হাজার দশেকের মত। কিছুদিন জিজ্ঞাসা করে জানলাম এইটা সেলেরন কিন্তু লেখে না বিজ্ঞাপন দেবার সময়ে।
তো প্র্যাকটিক্যাল শেষ হবার পরের থেকেই আবার চিল্লাচিল্লি শুরু করলাম। রাজী হইলো। বাজেটে দেখছে যে কম্পিউটারের দাম ২৫০০০-৩০০০০ এর মাঝে নেমে গেছে ট্যাক্স ফ্রি দেখে। আমি একটা কনফিগ আনলাম; দাম সেই আগের মতই ৪২০০০-৪৪০০০ টাকা। বাপরে তো আর কোনভাবে বুঝাতে পারি না, নতুন মডেলের দাম কমে না! সেইমই থাকে। যাইহোক, রাজী হইলো অবশেষে।
তারপর বাসায় যখন আনলাম পিসি, কি যে আনন্দ লাগতেছিলো। খুঁজা শুরু করলাম গেইমসের সিডি। এনএফএস ১ পাইলাম। মনের আনন্দে খেলতে থাকলাম। সাথে ডস আমলের পুরান কিছু গেইমসও, প্যারা, লোটাস, প্রিন্স অফ পার্সিয়া। এই প্রিন্স অফ পার্সিয়া প্রথম খেলি নানা বাসায়, ক্লাস নাইনে উঠছি কেবল। কোনভাবেই পারতাম না, দুই তিন লেভেল পরেই আমি শেষ! ঐদিকে দেখতাম আমার ছোট ভাই, কাজিন এরা কি সুন্দর একের পর এক পার হয়ে যাচ্ছে। পরে ক্লাসের এক ফ্রেন্ড একটা চিডকোড শিখিয়ে দেয়! আমি সেইটা নিয়ে একদম লাস্ট স্টেজে চলে যেতাম মাঝেরগুলো না খেলেই।
তো কম্পু কেনার পরে সাথে মাইক্রোসফট প্লাস বলে একটা জিনিস দিছিলো। ঐটাতে টক বলে একটা প্রোগ্রাম ছিলো। মজা লাগতো কিছু লেখলেই বলে বলে শুনাইতো। কম্পুর শুরুর দিকে এইসব ব্যাপার বেশ ইনজয় করতাম।
মাসখানেক যাবার পরেই দেখি কেমুন কেমুন লাগে। পোলাপাইনের কাছ থেকে গান, ছবি এইসব কপি করবো কেমনে! আমার আরেক ফ্রেন্ড আমার সাথে কম্পু কিনছিলো। দুইজনে যুক্তি করে হার্ডডিস্ক খুললাম দুইজনেরটাই। খুলে আরেক ছেলের বাসায় যেয়ে কপি করতে গেলাম। কিন্তু জাম্পার, কেবল ইত্যাদির সেটিংস তেমন না বুঝার জন্য ভালৈ ফ্যাকরা হইছিলো।
নরটনের বা NC এর একটা স্পলিটার ছিলো। ঐটা দিয়ে মুভি থেকে ক্লিপ বানাইতাম। তারপর বাকি অংশটুকু মুছে দিতাম। বেশ কিছুদিন এইভাবে করার পরে পাইলাম আইফিল্মএডিট। তারপর আরামে ড্র্যাগ করতাম আর কাটতাম। গান শুনার জন্য উইনঅ্যাম্পের খবর পাইছিলাম মাস ছয়েক পরে মনে হয়। ঐ সময়ে কেমনে চালাইতাম মনে নাই।
তবে গান রিপ করাটা খুব কষ্টে যাইতো সেই সময়ে। প্রথমে ওয়েভ ফাইল হিসেবে বানাইতাম, সাইজ হইতো মনে হয় ৪০-৫০ এমবি। তারপর ওয়েভ থেকে এমপিথ্রি বানাতাম। অনেক সময় নষ্ট হইতো। তারপর পাইলাম এমপিথ্রি এনকোডার। কি যে আরাম হইলো, তিন মিনিটেই দেখা যাইতো একটা গান পুরা রিপ করে ফেলছি। তারপর মিউজিকম্যাচ জিউক বক্স। আহা! আরো আরাম।
মাস সাতেক পরে পিসি ওয়ার্ল্ড বা এই টাইপের নামের একটা ম্যাগাজিনে পেলাম রেডহ্যাট লিনাক্সের ফ্রি সিডি। ম্যানুয়াল মন দিয়ে পড়ে ইচ্ছে হইলো লিনাক্স ইন্সটলের। করলামও ইন্সটল। কিন্তু তারপর কি জানি করে কম্পু আর বুট হইতেছিলো না। গুতাগুতি করতে যেয়ে গান রাখা একটা ড্রাইভ দিলাম হাওয়া কইরা! ছোট ভাইটা হেবি চেতছিলো তখন আমার উপরে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)


0 মন্তব্য
Post a Comment