১৬ ডিসেম্বর ২০০২ এ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৩১তম বার্ষিকীতে National Security Archive, USA বেশ কিছু জরুরি দলিল জনসম্মুখ্যে উন্মোচন করে। এই ডকুমেন্টগুলোতে নিক্সন আর কিসিঞ্জারের সেই সময়ে পাকিস্তানের প্রতি তাদের পলিসির বেশ কিছু গোপন তথ্য তুলে ধরে যা The Tilt নামে পরিচিত।

ঐদিন প্রকাশ করা ডকুমেন্টগুলোতে রয়েছেঃ

১. মার্চ ও এপ্রিলের গণহত্যার কিছু ডিটেইলস
২. কিছু টেলিগ্রাম যেখানে ঢাকায় থাকা কনসুলেট জেনারেল Archer Blood বলেন, "unfortunately, the overworked term genocide is applicable." যা পাকিস্তানের প্রতি আমেরিকার অন্ধ নীতির কথাই জানায়
২. পলিসি নির্ধারনে নিক্সনের ইয়াহিয়া খানের সাথে বন্ধুত্ব ও চীনের সাথে পলিটিক্যাল সম্পর্কের প্রভাব
৩. আনুষ্ঠানিকভাবে সাহায্য বন্ধের ঘোষনা দিয়ে অবৈধভাবে আমেরিকার সামরিক সাহায্যের অনুমোদন
৪. কিসিঞ্জারের দ্বৈতনীতি

পিছনের কথা

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৭ টি আসনে (১৬৯ এর মধ্যে) নির্বাচিত হওয়ায় ৩১৩ সিটের ন্যাশলান অ্যাসেমব্লিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ফলে রাজনৈতিক ক্ষমতা পূর্ব পাকিস্তানে কেন্দ্রীভূত হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়। (Anderson, Jack with George Clifford. The Anderson Papers. (New York: Random House, 1973) 214) ফলশ্রুতিতে ১ মার্চ, ১৯৭১ এ ইয়াহিয়া খান অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা দেয়।

এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠে বাঙ্গালিরা। যার ফলে ২৫ শে মার্চ থেকে শুরু হয় গণহত্যা এবং তিন মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু ঘটে (Brown, W. Norman. The United States and India, Pakistan, and Bangladesh. (Cambridge: Harvard University Press, 1972) 217)। আর মে মাসের মধ্যেই প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষ ইন্ডিয়াতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় (Ganguly, Sumit. Conflict Unending: India-Pakistan Tensions since 1947. (New Delhi: Oxford University Press, 2001) 61)।


আমেরিকার পাকিস্তান ঘেষা নীতি

পাকিস্তানের মিলিটারি শাসন ও মার্চের ঘটনাবলীর ব্যাপারে নিক্সন ফেব্রুয়ারি ৯, ১৯৭২ এ তার State of the World report to Congress এ উল্লেখ করে “United States did not support or condone this military action”। অবশ্য আমেরিকা এই গণহত্যা বন্ধের ব্যাপারে কোন রকম সহায়তাও করেনি ((Anderson, Jack with George Clifford, 215)।

বরং নিক্সন ও কিসিঞ্জারের কিছু কিছু আচরণ পাকিস্তানের প্রতি গ্রিন সিগনালই দিয়েছিল। নিক্সন সে সময়ে এক পাকিস্তানি দূতকে বলেছিল ইয়াহিয়া তার খুব ভালো বন্ধু। নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রতিবাদের বদলে সে বলেছিল “understands the anguish of the decisions which [Yahya] had to make.” চীনের সাথে ইয়াহিয়ার সম্পর্ক এবং নিক্সন ও কিসিঞ্জারের সাথেও তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারনে নিক্সন ঘোষণা দেয় “the U.S. "would not do anything to complicate the situation for President Yahya or to embarrass him."” এখানে ডকুমেন্টটি পাবেন Doc09

আমেরিকা বঙ্গপোসাগরে একটি নিউক্লিয়ার সাবমেরিন (USS Enterprise) পাঠায় এবং মিলিটারি সাপ্লাই হস্তান্তর করার অনুমতি প্রদান করে। যদিও তা অবৈধ ছিল। কারন কংগ্রেস কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল যে পাকিস্তানে কোনরকম সাহায্য দেয়া যাবে না। (নিচের ছবিতে দেখুন, ছবি ৪) পুরো ডকুমেন্টটি এখানে পাবেন Doc23 এছাড়া ইন্ডিয়া যখন যুদ্ধে জড়িয়ে পরে তখন ইন্ডিয়াতেও সকল সাহায্য প্রদান বন্ধ ঘোষণা করা হয় যা আগেই ইন্ডিয়াকে হুমকি হিসেবে দেয়া হয়েছিল (ছবি ২)। এছাড়া এই ডকুমেন্টে স্পষ্টভাবে কিসিঞ্জার পাকিস্তানের প্রতি তাদের সাপোর্টের কথা বলা আছে। জর্ডানিয়ান এয়ারক্র্যাফট সাহায্য যখন ইয়াহিয়া চেয়েছিল বাদশাহ হুসেইনের কাছে, তখন বাদশাহ আমেরিকার কাছে তাদের নীতি জানতে চাইলে Harold Saunders কিসিঞ্জারকে জানান যে আমেরিকা এইরকম কোন কিছুই (নিজেদের সাহায্য বা ৩য় পক্ষের সাহায্যে অনুমতি দেয়া) বৈধভাবে অ্যালাও করতে পারে না যদি না “unless the administration was willing "to change our own policy and provide the equipment directly.” ডকুমেন্ট২৯

আমেরিকার পাকিস্তানের প্রতি অনুরাগের অন্যতম কারন হিসেবে নিক্সনের ইয়াহিয়ার প্রতি ব্যক্তিগত পছন্দ আর ইন্দিরা গান্ধিকে অপছন্দ করাটা, পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে চীনের সুসম্পর্ক আর কিসিঞ্জারের পাওয়ার পলিটিক্সের উৎসাহকে উল্লেখ করা যায়।

নিক্সনের একটি হাতে লেখা নোটও নিচের ছবিতে (ছবি ১) আছে যেখানে সে সবাইকে জানায় “April 28, 1971, National Security Council decision paper: "To all hands. Don't squeeze Yahya at this time - RMN"” [ডকুমেন্ট৯]

সূত্রঃ

The Tilt: The U.S. and the South Asian Crisis of 1971
National Security Archive Electronic Briefing Book No. 79
Edited by Sajit Gandhi
December 16, 2002

কোয়ালিটিঃ

1 মন্তব্য

Post a Comment