ছোটবেলায় ঈদ মানে ছিলো অন্য কিছু। রমজানের কয়েকটা রোজা যাওয়ার পরেই মায়ের কিনে আনা কাপড় ট্রায়াল দিয়ে দেখা, ঈদে ভালোমন্দ খাওয়া, ইত্যাদি দেখা, আনন্দমেলা আর অন্য অনুষ্ঠানগুলো দেখা এইসব মিলিয়ে ছিলো ঈদ। আরেকটু বড় হবার পরে ঈদের মাঝামাঝি গেলেই টেনশনে পড়া, বাবার কাছ থেকে এইবার কত টাকা পাবো ঈদে, সেইটা নিয়ে। টাকা পেলেই প্রথমে পাঞ্জাবি আর তারপর অন্য কিছু কেনাকাটা। ঈদের দিন নামাজ পরে মিষ্টিমুখ করেই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে ছুটে যাওয়া। ঈদের পরের দিন মদ খেয়ে উল্লাস করা। গ্যান্দাকালে নানাবাড়ি বা দাদাবাড়িতেও মাঝে মাঝে যাওয়া হতো ঈদ করতে। আরো কাজিনরা আসতো, বেশ মজায় হই হুল্লোর করে ঈদ পার করা। যত দিন যাচ্ছে ঈদের আনন্দ কমে যাচ্ছে। ঈদ মানে হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন অনন্ত বিড়ি ফোঁকা! বাবা মায়ের ফোন আসলে সেমাই খাওয়ার মিছে গল্প বলা। চুপচাপ ঘুমিয়ে থেকে মানুষের আনন্দের গল্প শোনা। পুরানো দিনের কথা মনে করে বিষন্ন মুখে আরো একটি সিগারেট ধরানো। কার্টেসি বজায় রাখার জন্য কিছু ফোন করে শুভেচ্ছা বিনিময়। আর নিভৃতে একা একা ঈদের নোংরা গন্ধ নেয়া! অচেনা মানুষগুলোর উল্লাস একা একা বসে থেকে দেখা!
Subscribe to:
Post Comments (Atom)


চাদ্দিকে শুধু মন খারাপের গল্প। এবার আনন্দের কিছু লেখেনরে ভাই।
থ্যাঙ্কস অমিত ভাই কমেন্টের জন্য।
আনন্দ উড়ে গেছে মন থেকে। :((