বিয়ের দাওয়াত!

লিখেছেন রাশেদ | Saturday, October 11, 2008 | | 6 মন্তব্য »


ভার্সিটি থেকে পাস করার কিছুদিন পরে একবার চট্রগ্রাম গিয়েছিলাম এক ফ্রেন্ডের বড় বোনের বিয়ের দাওয়াত খেতে। কয়েক ফ্রেন্ড সেখানে জব করছে, তাদের বাসাতে থাকা যাবে, বেশ কিছুদিন তাদের সাথে আড্ডা দেয়া হয় না। এই চান্স মিস করা ঠিক হবে না ভাবলাম আর সেই ফ্রেন্ডের বাসার সবাই আমাকে চিনে, তাই বিয়েটাও মিস করা উচিত হবে না ভেবে রাতের বাসে উঠে পড়লাম চট্রগ্রাম যাওয়ার জন্য। এই জার্নিটা আমি খুব উপভোগ করি, দারুন দারুন ভলভো এসি বাস। আরামে চলে যাওয়া যায়।


তো সকালে পৌঁছালাম চট্রগ্রাম। ফ্রেন্ডকে ফোন দিয়ে রিকসা নিয়ে তাদের বাসায় চলে গেলাম। শুরু হলো গল্পগুজব। আরো কিছু ফ্রেন্ড ছিলো চট্রগ্রামের, ভার্সিটিতে পড়ার সময়ে পরিচয়। তাদের সাথেও দেখা হলো। সারাদিন তুমুল আড্ডা দিয়ে কাটলো। মাঝে ফয়েজ লেক ঘুরে আসলাম। সন্ধায় গেলাম পতেঙ্গা। সেখানে চুপচাপ বসে বসে ভার্সিটি আমলের মজার সব স্মৃতিচারণ চললো কিছুক্ষণ। তারপর শুরু হলো হেরে গলায় গান। সাথে যেই কয়েকজন ছিলো, কারো গলায়ই সুর নাই বা কয়েক লাইনের বেশি কোনো গান জানি না। তাও চালাতে থাকলাম।

এক পোলা এসে তখন পানীয় লাগবে নাকি জিজ্ঞাসা করলো। কিনে ফেললাম একটা! পতেঙ্গায় আগেও অনেক আসছি, কিন্তু কোনদিন খাই নাই। সেদিন খেয়ে ফেললা, সেখানে বসে। বার্মিজ ছিলো নাকি খেয়াল নাই, তবে খানিকটা করা ছিলো। কেরু খাওয়া পেটেও টের পাচ্ছিলাম কিছু নামতেছে গলা দিয়ে!

যাইহোক, পরের দিন রাতে দাওয়াত ৮ টায়। আমরা সবাই সেজেগুজে রওয়ানা দিলাম ৮ টার দিকে। যেয়ে দেখি কেউ নাই! এক ছেলে বারবার মানা করছিলো এতো আগে না যেতে! পাত্তা দেই নাই। দিলাম বন্ধুকে ফোন। বলে যে এইতো আসতেছি। তাও কোন খবর নাই। কি আর করা! চুপচাপ বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে বিড়ি খাই আর গপ্প করতে থাকলাম। অবশেষে তারা আসলো। আমাদের খেতে ডাকলেও বসি নাই, ভাবলাম পরেই খাই। বন্ধুকে বলেও রেখেছিলাম যে পরে খাবো তার সাথে। আমরা বাইরে দাঁড়িয়ে মেয়ে দেখি আর হিসাব নিকাশ করি; বিড়ি টানাও চলছিলো। তো অনেকক্ষণ পরে আমাদের হুশ হলো, ব্যাপার কি! ঐ বন্ধুকে তো দেখতেছি না অনেকক্ষণ ধরে। ভিতরে যেয়ে উঁকি দিলাম। দেখি সে খাচ্ছে, ভাবে মনে হলো এইটা লাস্ট ব্যাচ। আমি তাড়াতাড়ি বাইরে এসে বাকিদের বললাম কাহিনী। সবাই একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেছে। এখন ভিতরে যাই কিভাবে। শুধু আত্মীয় লোকজনের খাওয়া দাওয়া চলতেছে মনে হলো। তাড়াতাড়ি ভাগলাম।

এখন যাদের সাথে ছিলাম, তাদের সাথে আরো দুইজন সিনিয়র ভাই থাকে। ফলে বাসায় যেয়ে যে পুরানো যা আছে খাবো, কেমন জানি লাগতেছিলো। চরম বেইজ্জতি কান্ড! তাড়াতাড়ি জিইসির মোড়ে চলে গেলাম। দেখি সব দোকান বন্ধ। আশে পাশে খোঁজা শুরু করলাম। কোন হোটেল পাচ্ছি না, যেখানে খাওয়া দাওয়া করা যায়। পরে একটাতে দেখি আলো জ্বলে। সেখানে দৌড়ে চলে গেলাম। অর্ডার দিলাম। খাওয়া আসে না, অনেকক্ষণ পরে বেশ কিছু খাবার দিলো। কিন্তু যা অর্ডার দিয়েছিলাম, সেগুলো পাই নাই। একজন এসে বললো, এইগুলোই শুধু আছে এখন। আর কিছুই নাই এই মুহূর্তে। কি আর করা। মনে হয় স্টাফ কারি ছিলো সেগুলো। হামলে পরে সাবাড় করলাম তাড়াতাড়ি।

তারপর আসতে ধীরে বাসায় চলে আসলাম সেই বন্ধুরে দুনিয়ার সব গালি দিতে দিতে। বিয়ে বাড়িতে যেয়ে গিফট দিয়েও খাওয়া মিস! তাকে এখনো অবশ্য বলা হয় নাই এই কাহিনী লজ্জা পাবে দেখে।


কোয়ালিটিঃ

6 মন্তব্য

  1. Aumit Ahmed // October 11, 2008 3:54 PM  

    চট্টগ্রামের বিয়েতে খানা পান নাই? কন কি? ব্যাড লাক। খানা-দানার ব্যাপারে তাদের আতিথেয়তার জুড়ি নাই। টেবিলে এতো পদ থাকে যে সব খাওয়া হয়ে ওঠে না। আর চট্টগ্রামে দু'টো বিয়েতে গেছি। দু'টোতেই সারারাত ধরে অনুষ্ঠান হয়েছিলো। গান-বাজনা, নাচ। একটাতে আবার তিনদিন ধরে মেজবান।

  2. রাশেদ // October 12, 2008 6:28 AM  

    আর বইলেন না, আসলেই ভয়াভয় ব্যাড লাক। আর ওরা ছিলো সিম্পল মধ্যবিত্ত, খুব বেশি হই চই ছিলো না। ওদের বাসাতে যাই নাই নাচা গানাতে, বন্ধুরা মিলে রিইউনিয়ন নিয়ে বিজি ছিলাম। কমিউনিটি সেন্টার থেকে তারা মনে হয় রাত বারোটা - একটার মধ্যেই চলে গেছিলো।

  3. মুকুল // October 21, 2008 8:03 PM  

    নিন্দা জানাই :-)

  4. blog // October 24, 2008 4:59 PM  

    আপনি তো দেখি দিনদিন বাংলা ছবির ডিরেক্টর হইয়া যাইতেসেন। টাইটেল দেইখা মনে করছিলাম, বিয়ের দাওয়াত দিসেন। নিন্দা জানাই।

  5. রাশেদ // October 25, 2008 9:07 AM  

    @ শিমুল... হে হে! আমিও জানাই। :D :D

    @ মুকুল... হ! জানাও জানাও। :P


    @ ব্লগ ভাইয়া... হায়! বিয়ার দাওয়াতটা যদি দিতে পারতাম। :(

Post a Comment