কিছু এলোমেলো স্মৃতিকথা। কোন লাইন বেলাইন নাই।
আমার স্কুল লাইফ কেটেছে মেলা জায়গায়। বাবার ছিল বদলীর চাকরি। যার জন্য একের পর এক জায়গাতে ঘুরে বেড়িয়েছি। জন্মেছিলাম রাজশাহীতে। তাও নানাভাই তখন সেখানে জব করতো বলে। স্কুলে কেজি আর ওয়ানের কিছুটা পড়েছিলাম এক জায়গায়। তারপর টু থেকে ফোর আবার নতুন শহরে। থ্রিতে যখন পড়ি সাথী বা এই নামের এক মেয়ে ছিলো ক্লাস ক্যাপ্টেইন। ইউ. এন. ও. সাহবের মেয়ে, গাড়িতে করে আসে যায়। ম্যাডাম তেল দিতে যেয়ে তারে বানায় ক্লাসের মাথা। এই মাইয়া আমার কয়েকটা বন্ধু আর আমারে কম জ্বালায় নাই! খালি কথা বলি হেই সেই বলে নালিশ করত আর ঝাড়ি খাওয়াতো। ক্লাস ফোরে গেলাম সরকারি স্কুলে। ঐখানে মজাই হইতো। পড়ালেখার তেমন বালাই ছিলো না। কেজি স্কুলের কড়াকড়ি ছিল না। ঐখানে এক মুড়িওয়ালা টাকা পাইতো আমার কাছে, দেয়া হয় নাই, তার আগেই চলে আসি।
ফাইভে উঠে আবার চেঞ্জ! সিক্সে পরে অ্যাড নিলাম আরেকখান স্কুলে। ক্লাস সেভেনে আমি রীতিমত ক্যাম্পেইন করে ক্লাস ক্যাপ্টেন হলাম। এক বছর ভালোই অত্যাচার করেছিলাম। কাউকে কথা বলতে দিতাম না, একদম মুখ বন্ধ করে থাকা লাগতো সবাইকে। হি হি! এইটে উঠে আর ভুলেও দাড়াই নাই ক্যাপ্টেন পদে। কারন এক ভোট পাবার সমূহ সম্ভাবনা ছিলো। পোলাপাইন আমারে মাইর দেয় নাই খালি কেন জানি আমারে পছন্দ করতো তাই। নাইলে আমার খবর ছিল। সেভেন এইটেই আমার দুই ফ্রেন্ড ছুরি নিয়ে পুলিশের হাতে ধরা খাইছিলো। এইগুলোও ভালো ছিল আমার প্রতি। অন্য কেউ হইলে পিটাইয়া তক্তা কইরা দিত যেই অত্যাচার পোলাপাইনের উপরে আমি করেছিলাম।
নাইনে উঠে আবার আরেক স্কুলে!! শান্তি! আর কোন চেঞ্জ এরপর ছিলো না! তো নাইনে আমাদের এক স্যর ছিল শাহাবুদ্দীন মনে হয় তার নাম। বাংলা পড়াতেন কিন্তু কি পড়াতেন তিনিই জানেন! শুধু হেডস্যরকে করিডরে দেখলে ওনার গলা শুনতাম। বাকি সময় উনি মনে মনে কথা বলে কাটাইতেন।
মজার একটা ব্যাপার হয়েছিল নাইন বা টেনে। বায়োলজির (সিউর না) ল্যাবে ম্যাগনিফায়িং গ্লাস হারানো গেলো। তো স্যর সবার ব্যাগ তল্লাশি করাইলো। আমাদের এক ফ্রেন্ড খালি উশখুশ করে। পরে কানে কানে বলে ব্যাগে কিছু বইপত্র আছে। এখন স্যার যদি দেখে ফেলে! পরে ক্যাপ্টেন বাবাজিরে বলাইয়া ওর ব্যাগটা সাবধানে চেক করা হইলো। সামনের পকেটে আর চেক দিলো না! ক্লাস টেনে মিজান স্যার ছিলেন ক্লাস টিচার। মজা হইতো যেদিন বেতন তোলা হইতো। কোন ক্লাস হতো না, আমরা বসে থাকতাম। আর ক্লাস ক্যাপ্টেইনের দায়িত্ব থাকতো নাম লেখা। আমার মত ভোলাভালার নাম একবার কিভাবে জানি বেটা তুলে দেয় বোর্ডে! আর কপাল এতই খারাপ, মিজান স্যর ঐদিন যাদের নাম ছিল তাদেরকে ডাকলেন। আর সেইবার জীবনে প্রথম কান ধরে উঠবোস করলাম।
সিক্স থাইক্কা টেন আর কলেজে মেয়েদের সাথে পড়ি নাই, এইডাও একটা আফসোস! মেয়ে দেখতাম খালি স্যরের বাসাতে!
তুমি আমার ছোট্ট পাখি
দিয়ে আমারে ফাঁকি
কোথা যাও উড়ি উড়ি
মন যে কাঁদে
হৃদয় যে পুড়ে
মন যে মানে না
কিছুই যে বুঝি না
শুধু কেন তোমারে
ভুলে যেতে পারি না
তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে
আবার যে মন চায় হারাতে
তুমি এসো না আবার কাছে
দাও না আরেকবার আমাকে ছুঁয়ে
তোমারি বিনা আমি
থাকি না যে আর আমি
আমি ছাড়া তুমি
হবে না তুমি
তুমি আমি আমি তুমি
আমি তুমি তুমি আমি
আরেকবার শুধু আসো
হারাতে আর দেবো না
মনের মাঝেতে তালা দিয়ে
রাখতে যে আর চাই না
আমার আকাশ হয়না তো নীল
বাতাসে নেই তোমার গন্ধ,
আমার শিয়রে পড়বে না তোমার হাত
বলবে না আর কিছু মৃদু মন্দ!!
তোমাতে তুমি মগ্ন
তোমাতে তুমি শিহরিত,
আমার দেয়া কথামালা
তোমাকে যে করে না কম্পিত!!
তোমাকে আমি দেই গাল
লাল সাদা তরলের আড়ালে,
তোমাকে পেলে দেব মাইর
সিগারেটের ধোয়ায় লুকিয়ে!!
আর বলব না তোমার কথা
অভিমান করেছি যে বড়ই,
তোমার স্মৃতি আজ ধুসর
অশ্রু ধুয়ে দিয়েছে সবই!!
তবুও বলে যাই
এসো একবার হলেও,
দিয়ে যেও ফুল
তোমার এই পাগলটাকে!!
বলতে পারি সখী
তোমার মনের সব কথা,
দুঃখের পথটুকু পেড়িয়ে
সুখের চাদরে বেঁধে ফেলেছ নিজেকে।
জানি আমি সখী
তুলেছিলাম তোমায় কষ্টের পাহাড়ে
আবার সেখান থেকে
ফেলেছিলাম সুখের কাঁদা মাটিতে।
সেই মাটিতে তুমি করলে আবাদ
গড়ে নিলে আপন টিলা।
কষ্টের পাহাড়ে আর চড়াবো না
সুখের টিলাতেই থাকো তুমি।
আমি কিন্তু নামি নাই সেই পাহাড় থেকে
আমি যে ফেঁসে গেছি সেই চূড়ায়!
তবুও নেই কোন গ্লানি
নেই কোন হতাশা
তোমার ভালো চেয়েছিলাম তখনো
এখনো যে তাই চাই।
শুধু মনে পড়ে
দুঃখের পাহাড় পেড়িয়ে,
সুখের পর্বতেও যে
আমি তোমাকে বাঁধতে চেয়েছিলাম!
কি সখী ডরাইলা!

