স্বীকারক্তি!

লিখেছেন রাশেদ | Monday, July 28, 2008 | | 6 মন্তব্য »

জীবনে কোনদিন কবিতার বই পড়ি নাই।

বনলতা সেন, যুদ্ধে যাবার শ্রেষ্ঠ সময় ইত্যাদি কবিতা পুরা পড়ছি প্রথম ব্লগে এসে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের নাম প্রথম শুনি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে যখন উঠি। ওনার মৃত্যুর খবর পেপারে দেখে। তখন জানলাম উনি ঢাকা কলেজেরই একজন টিচার। তারপর খালার কাছ থেকে চিলেকোঠার সিপাই বইটা এনে দুই পাতা পড়ছিলাম। আর পড়তে ভালো লাগে নাই।

হুমায়ুন আহমেদ, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল টাইপ লেখা ছাড়া আর তেমন কোন লেখা পড়ি নাই।

রবীন্দ্র বা নজরুল কোনদিন পড়ি নাই।

রবীন্দ্র সঙ্গীত নিজে থেকে শুনি নাই তেমন। বাসায় আম্মু শুনতো, তখন কানে আসতো।

রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি নিয়ে তেমন সচেতন ছিলাম না। ব্লগে এসে মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে অনেক কিছু জেনেছি। তবে জামাত আর রাজাকার সব সময়ই ঘৃণা করছি। এইখানে ব্লগের কোন অবদান নাই।

মুভি দেখার ব্যাপারে হিন্দী বা ইংলিশ ভেদাভেদ নাই। পাইলে সবই দেখি।

হিন্দী গান খুব প্রিয়। তবে মিউজিক ভিডিওগুলো মেইনলি।

সিং ইজ কিং ছবির গানে ক্যাটরিনার পা দেখে আমি মুগ্ধ।

ক্যাথেরিন জেটা জোন্সরে ভালো লাগতো। কিন্তু বুইড়ারে বিয়া করার পর থাইকা টাকাখোড় মনে হয় তারে।

ব্লগে এসে কবিতা পড়তে ও লেখতে বাধ্য হইছি!

অনেক গান শুনা হইছে যেইগুলো আগে শুনি নাই। সতীনাথ, শ্রীনাথ মার্কা গান ব্লগে এসেই শুনি, আগে কানে আসতো, নিজে থেকে শুনতাম না।

খেলাধূলা করতে সবস্ময়ে আইলসামি লাগে।

প্রিয় জিনিস ঘুমানো। ১০ -১২ ঘন্টা ঘুম না দিলে ভালো লাগে না।

রান্না করতে ভয়াভয় কষ্ট লাগে। রান্না তেমন করি না। মাঝে মাঝে দেখা যায় মুরগি গন্ধ হয়ে গেছে তাও সেইটা খাইতেছি।

খাবার পর প্লেট হাড়ি পাতিল ধুতে মেলা কষ্ট লাগে। মাঝে মাঝে রুমে দুই তিন দিন পড়ে থাকে এঁটো প্লেট।

চায়ের কাপ প্রায়ই অনেক ঘসে ঘসে ধুতে হয়। কারন রুমে ফেলে রাখি।

ফ্রিজ থেকে মুরগি বের করে মাঝে মাঝে পানিতে দুই তিন দিন ভিজাই রাখি। তারপর বিনে ফেলে দেই পঁচা গন্ধের কারনে।

জিমে যাবার প্ল্যান নিয়ে বসে আছি দুই বছর ধরে।

সাতার শিখার ইচ্ছেও আছে মেলাদিন ধরে। ঢাবির পুলে শিখতে গেছিলাম। একদিন নাকানি চুবানি খেয়ে গভীর পানিতে আর যাই নাই।

হাত পায়ের নখ কাটতে আইলসামি লাগে। হাতেরটা কাটলেও পায়েরটা কাটা হয় না।

রান্না করার সময়ে ধনে পাতা বা কাঁচা মরিচ দিতাম না প্রায় আড়াই বছর। কিছুদিন ধরে হলো দেয়া শুরু করছি।

বিস্তারিত পড়ুন...

১৬ ডিসেম্বর ২০০২ এ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৩১তম বার্ষিকীতে National Security Archive, USA বেশ কিছু জরুরি দলিল জনসম্মুখ্যে উন্মোচন করে। এই ডকুমেন্টগুলোতে নিক্সন আর কিসিঞ্জারের সেই সময়ে পাকিস্তানের প্রতি তাদের পলিসির বেশ কিছু গোপন তথ্য তুলে ধরে যা The Tilt নামে পরিচিত।

ঐদিন প্রকাশ করা ডকুমেন্টগুলোতে রয়েছেঃ

১. মার্চ ও এপ্রিলের গণহত্যার কিছু ডিটেইলস
২. কিছু টেলিগ্রাম যেখানে ঢাকায় থাকা কনসুলেট জেনারেল Archer Blood বলেন, "unfortunately, the overworked term genocide is applicable." যা পাকিস্তানের প্রতি আমেরিকার অন্ধ নীতির কথাই জানায়
২. পলিসি নির্ধারনে নিক্সনের ইয়াহিয়া খানের সাথে বন্ধুত্ব ও চীনের সাথে পলিটিক্যাল সম্পর্কের প্রভাব
৩. আনুষ্ঠানিকভাবে সাহায্য বন্ধের ঘোষনা দিয়ে অবৈধভাবে আমেরিকার সামরিক সাহায্যের অনুমোদন
৪. কিসিঞ্জারের দ্বৈতনীতি

পিছনের কথা

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৭ টি আসনে (১৬৯ এর মধ্যে) নির্বাচিত হওয়ায় ৩১৩ সিটের ন্যাশলান অ্যাসেমব্লিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ফলে রাজনৈতিক ক্ষমতা পূর্ব পাকিস্তানে কেন্দ্রীভূত হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়। (Anderson, Jack with George Clifford. The Anderson Papers. (New York: Random House, 1973) 214) ফলশ্রুতিতে ১ মার্চ, ১৯৭১ এ ইয়াহিয়া খান অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা দেয়।

এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠে বাঙ্গালিরা। যার ফলে ২৫ শে মার্চ থেকে শুরু হয় গণহত্যা এবং তিন মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু ঘটে (Brown, W. Norman. The United States and India, Pakistan, and Bangladesh. (Cambridge: Harvard University Press, 1972) 217)। আর মে মাসের মধ্যেই প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষ ইন্ডিয়াতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় (Ganguly, Sumit. Conflict Unending: India-Pakistan Tensions since 1947. (New Delhi: Oxford University Press, 2001) 61)।


আমেরিকার পাকিস্তান ঘেষা নীতি

পাকিস্তানের মিলিটারি শাসন ও মার্চের ঘটনাবলীর ব্যাপারে নিক্সন ফেব্রুয়ারি ৯, ১৯৭২ এ তার State of the World report to Congress এ উল্লেখ করে “United States did not support or condone this military action”। অবশ্য আমেরিকা এই গণহত্যা বন্ধের ব্যাপারে কোন রকম সহায়তাও করেনি ((Anderson, Jack with George Clifford, 215)।

বরং নিক্সন ও কিসিঞ্জারের কিছু কিছু আচরণ পাকিস্তানের প্রতি গ্রিন সিগনালই দিয়েছিল। নিক্সন সে সময়ে এক পাকিস্তানি দূতকে বলেছিল ইয়াহিয়া তার খুব ভালো বন্ধু। নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রতিবাদের বদলে সে বলেছিল “understands the anguish of the decisions which [Yahya] had to make.” চীনের সাথে ইয়াহিয়ার সম্পর্ক এবং নিক্সন ও কিসিঞ্জারের সাথেও তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারনে নিক্সন ঘোষণা দেয় “the U.S. "would not do anything to complicate the situation for President Yahya or to embarrass him."” এখানে ডকুমেন্টটি পাবেন Doc09

আমেরিকা বঙ্গপোসাগরে একটি নিউক্লিয়ার সাবমেরিন (USS Enterprise) পাঠায় এবং মিলিটারি সাপ্লাই হস্তান্তর করার অনুমতি প্রদান করে। যদিও তা অবৈধ ছিল। কারন কংগ্রেস কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল যে পাকিস্তানে কোনরকম সাহায্য দেয়া যাবে না। (নিচের ছবিতে দেখুন, ছবি ৪) পুরো ডকুমেন্টটি এখানে পাবেন Doc23 এছাড়া ইন্ডিয়া যখন যুদ্ধে জড়িয়ে পরে তখন ইন্ডিয়াতেও সকল সাহায্য প্রদান বন্ধ ঘোষণা করা হয় যা আগেই ইন্ডিয়াকে হুমকি হিসেবে দেয়া হয়েছিল (ছবি ২)। এছাড়া এই ডকুমেন্টে স্পষ্টভাবে কিসিঞ্জার পাকিস্তানের প্রতি তাদের সাপোর্টের কথা বলা আছে। জর্ডানিয়ান এয়ারক্র্যাফট সাহায্য যখন ইয়াহিয়া চেয়েছিল বাদশাহ হুসেইনের কাছে, তখন বাদশাহ আমেরিকার কাছে তাদের নীতি জানতে চাইলে Harold Saunders কিসিঞ্জারকে জানান যে আমেরিকা এইরকম কোন কিছুই (নিজেদের সাহায্য বা ৩য় পক্ষের সাহায্যে অনুমতি দেয়া) বৈধভাবে অ্যালাও করতে পারে না যদি না “unless the administration was willing "to change our own policy and provide the equipment directly.” ডকুমেন্ট২৯

আমেরিকার পাকিস্তানের প্রতি অনুরাগের অন্যতম কারন হিসেবে নিক্সনের ইয়াহিয়ার প্রতি ব্যক্তিগত পছন্দ আর ইন্দিরা গান্ধিকে অপছন্দ করাটা, পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে চীনের সুসম্পর্ক আর কিসিঞ্জারের পাওয়ার পলিটিক্সের উৎসাহকে উল্লেখ করা যায়।

নিক্সনের একটি হাতে লেখা নোটও নিচের ছবিতে (ছবি ১) আছে যেখানে সে সবাইকে জানায় “April 28, 1971, National Security Council decision paper: "To all hands. Don't squeeze Yahya at this time - RMN"” [ডকুমেন্ট৯]

সূত্রঃ

The Tilt: The U.S. and the South Asian Crisis of 1971
National Security Archive Electronic Briefing Book No. 79
Edited by Sajit Gandhi
December 16, 2002

বিস্তারিত পড়ুন...

যেই বছর ইন্টার দিলাম সেই বছর হাসিনার সরকার ট্যাক্স ফ্রি করলো কম্পিউটারের জিনিসপত্রের উপরে। ফার্স্ট ইয়ার থেকেই বাপের পিছনে ঘুরতে ছিলাম কম্পিউটার কিনে দেবার জন্য। পরীক্ষা দিয়েই আবার ঘ্যান ঘ্যান শুরু করলাম দুই ভাই মিলে। তখন পেন্টিয়াম ২ এর মার্কেট চলতেছে। সেই সময়ে আসলো সেলেরন প্রসেসর। পেপারে দেখতাম নিয়মিত পেন্টিয়াম ২ সেইম কনফিগারেশন কিন্তু দামের পার্থক্য হাজার দশেকের মত। কিছুদিন জিজ্ঞাসা করে জানলাম এইটা সেলেরন কিন্তু লেখে না বিজ্ঞাপন দেবার সময়ে।

তো প্র্যাকটিক্যাল শেষ হবার পরের থেকেই আবার চিল্লাচিল্লি শুরু করলাম। রাজী হইলো। বাজেটে দেখছে যে কম্পিউটারের দাম ২৫০০০-৩০০০০ এর মাঝে নেমে গেছে ট্যাক্স ফ্রি দেখে। আমি একটা কনফিগ আনলাম; দাম সেই আগের মতই ৪২০০০-৪৪০০০ টাকা। বাপরে তো আর কোনভাবে বুঝাতে পারি না, নতুন মডেলের দাম কমে না! সেইমই থাকে। যাইহোক, রাজী হইলো অবশেষে।

তারপর বাসায় যখন আনলাম পিসি, কি যে আনন্দ লাগতেছিলো। খুঁজা শুরু করলাম গেইমসের সিডি। এনএফএস ১ পাইলাম। মনের আনন্দে খেলতে থাকলাম। সাথে ডস আমলের পুরান কিছু গেইমসও, প্যারা, লোটাস, প্রিন্স অফ পার্সিয়া। এই প্রিন্স অফ পার্সিয়া প্রথম খেলি নানা বাসায়, ক্লাস নাইনে উঠছি কেবল। কোনভাবেই পারতাম না, দুই তিন লেভেল পরেই আমি শেষ! ঐদিকে দেখতাম আমার ছোট ভাই, কাজিন এরা কি সুন্দর একের পর এক পার হয়ে যাচ্ছে। পরে ক্লাসের এক ফ্রেন্ড একটা চিডকোড শিখিয়ে দেয়! আমি সেইটা নিয়ে একদম লাস্ট স্টেজে চলে যেতাম মাঝেরগুলো না খেলেই।

তো কম্পু কেনার পরে সাথে মাইক্রোসফট প্লাস বলে একটা জিনিস দিছিলো। ঐটাতে টক বলে একটা প্রোগ্রাম ছিলো। মজা লাগতো কিছু লেখলেই বলে বলে শুনাইতো। কম্পুর শুরুর দিকে এইসব ব্যাপার বেশ ইনজয় করতাম।

মাসখানেক যাবার পরেই দেখি কেমুন কেমুন লাগে। পোলাপাইনের কাছ থেকে গান, ছবি এইসব কপি করবো কেমনে! আমার আরেক ফ্রেন্ড আমার সাথে কম্পু কিনছিলো। দুইজনে যুক্তি করে হার্ডডিস্ক খুললাম দুইজনেরটাই। খুলে আরেক ছেলের বাসায় যেয়ে কপি করতে গেলাম। কিন্তু জাম্পার, কেবল ইত্যাদির সেটিংস তেমন না বুঝার জন্য ভালৈ ফ্যাকরা হইছিলো।

নরটনের বা NC এর একটা স্পলিটার ছিলো। ঐটা দিয়ে মুভি থেকে ক্লিপ বানাইতাম। তারপর বাকি অংশটুকু মুছে দিতাম। বেশ কিছুদিন এইভাবে করার পরে পাইলাম আইফিল্মএডিট। তারপর আরামে ড্র্যাগ করতাম আর কাটতাম। গান শুনার জন্য উইনঅ্যাম্পের খবর পাইছিলাম মাস ছয়েক পরে মনে হয়। ঐ সময়ে কেমনে চালাইতাম মনে নাই।

তবে গান রিপ করাটা খুব কষ্টে যাইতো সেই সময়ে। প্রথমে ওয়েভ ফাইল হিসেবে বানাইতাম, সাইজ হইতো মনে হয় ৪০-৫০ এমবি। তারপর ওয়েভ থেকে এমপিথ্রি বানাতাম। অনেক সময় নষ্ট হইতো। তারপর পাইলাম এমপিথ্রি এনকোডার। কি যে আরাম হইলো, তিন মিনিটেই দেখা যাইতো একটা গান পুরা রিপ করে ফেলছি। তারপর মিউজিকম্যাচ জিউক বক্স। আহা! আরো আরাম।

মাস সাতেক পরে পিসি ওয়ার্ল্ড বা এই টাইপের নামের একটা ম্যাগাজিনে পেলাম রেডহ্যাট লিনাক্সের ফ্রি সিডি। ম্যানুয়াল মন দিয়ে পড়ে ইচ্ছে হইলো লিনাক্স ইন্সটলের। করলামও ইন্সটল। কিন্তু তারপর কি জানি করে কম্পু আর বুট হইতেছিলো না। গুতাগুতি করতে যেয়ে গান রাখা একটা ড্রাইভ দিলাম হাওয়া কইরা! ছোট ভাইটা হেবি চেতছিলো তখন আমার উপরে।

বিস্তারিত পড়ুন...